Home

সবাই যখন খেলা নিয়ে ব্যস্ত, তখন একটা সংবাদ দিই।

Jun 23, 2026· 4 views
সবাই যখন খেলা নিয়ে ব্যস্ত, তখন একটা সংবাদ দিই।

আজ ২৩ জুন, ঐতিহাসিক পলাশী দিবস। অনেকেই জানেন না বা ভুলে গেছেন, এই পলাশী দিবসে কী ঘটেছিল।

১৭৫৭ সালের এই দিনে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হন। এর ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য স্বাধীনতা হারায় বাংলার মাটি।

নদিয়া জেলার পলাশীর আমবাগানে এই যুদ্ধ হয়েছিল। তবে এটি আসলে কোনো যুদ্ধ ছিল না, ছিল একটি নির্মম প্রহসন। নবাবের নিজের মানুষরাই তাঁর সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।

মীরজাফর, জগৎ শেঠ, রায়দুর্লভ এবং ঘসেটি বেগমের ক্ষমতার লোভ এই পতনের পথ তৈরি করে। তারা গোপনে হাত মিলিয়েছিল ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের সাথে। নবাবের পক্ষে লড়েছিলেন মাত্র কয়েকজন খাঁটি দেশপ্রেমিক, যাদের মধ্যে অন্যতম সেনাপতি মীরমদন ও মোহনলাল।

সেদিন নবাবের সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার। আর ইংরেজদের দলে ছিল মাত্র ৩ হাজার সেনা। নবাবের বাহিনী একটি করে ঢিল ছুঁড়লেও ইংরেজরা শেষ হয়ে যেত। কিন্তু মীরজাফরের অধীনে থাকা ৪৫ হাজার সৈন্য যুদ্ধের মাঠে নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে রইল।

তা সত্ত্বেও মীরমদন ও মোহনলাল প্রাণপণ লড়াই করে ইংরেজদের প্রায় হারিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ কামানের গোলার আঘাতে মীরমদন শহীদ হন। নবাব তখন ভয় পেয়ে তিনি পরামর্শ চান মীরজাফরের কাছে।

মীরজাফর নবাবকে কুরআন ছুঁয়ে মিথ্যা আশ্বাস দেয় এবং যুদ্ধ বন্ধ করার পরামর্শ দেয়। নবাব সেই ভুল পরামর্শ বিশ্বাস করেন এবং যুদ্ধ থামানোর আদেশ দেন। নবাবের সৈন্যরা যখন বিশ্রাম নিচ্ছিল, তখনই ইংরেজরা পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায়। মুহূর্তেই বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।

এই পরাজয়ের পর ইংরেজরা দীর্ঘ ১৯০ বছর আমাদের শাসন ও শোষণ করে। বাংলার কোটি কোটি টাকার সম্পদ তারা ইংল্যান্ডে পাচার করে। সেই টাকায় ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব হয়। আর আমাদের রূপকথার সোনার বাংলা পরিণত হয় এক শ্মশান বাংলায়।

নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে ইংরেজরা অনেক কুৎসা রটিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন এক স্বাধীনচেতা শাসক। ঘরের শত্রুদের চক্রান্তের কারণেই তিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেননি।

Comments (0)

Please sign in to comment.